দাকোপে হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

33

বিধান চন্দ্র ঘোষ দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা : দীর্ঘদিন যাবৎ খুলনার দাকোপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, আলট্রাসনো ও ইসিজি মেশিন অকেজ হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যসেবা চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী ও হাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় দুই লক্ষ মানুষের
চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। কিন্তু ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য
কমপেক্সেটি খাতা কলমে ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও সংশিষ্ট পদে রয়েছে চরম জনবলের অভাব। দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ এক্স-রে, চার বছর আলট্রাসনো ও ইসিজি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তাছাড়া এমটি রেডিওগ্রাম পদটিও রয়েছে শূন্য। পরিবেশ ও অবস্থানগত কারণে দক্ষিণ খুলনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্বাস্থ্য কমপেক্সটিতে এই উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা, রামপাল, পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। যে কারনে প্রতিদিন বহিঃ বিভাগে দেড়‘শ থেকে ২‘শ জন সাধারন রোগীর পদচারনা ঘটে।

এরপরও আন্ত বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী। এছাড়া হাসপাতটি ৫০ শয্যা হলেও প্রতিদিন ১‘শ থেকে দেড়‘শ জন রোগী ভর্তি থাকে। ফলে বেড ছাড়াও বারান্দায় গাদাগাদি অবস্থাায় রোগী থাকতে দেখা যায়। এসব রোগীদের হাসপাতালের বাহিরের প্রাইভেট প্যাথলজি থেকে অতিরিক্ত বাড়তি খরচে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এমনকি বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে খুলনা শহরেও যেতে হচ্ছে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। ফলে অধিকাংশ রোগীদের পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই সেবা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা চালনা সবুজ পল্লী এলাকার রোগী শাহিন আহমেদ জানান ডাক্তার দেখানোর পর তাকে আলট্রাসনো গ্রাম টেষ্ট দেয়। সেটি বাহিরের প্যাথলজি থেকে করতে তার সাড়ে ৫‘শ টাকা লেগেছে বলে জানান।

চালনা নোলোপাড়া এলাকার জোনাব আলী গাজী বলেন সে বেশ কিছুদিন যাবৎ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে
হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার দুইটি টেষ্ট খুলনা থেকে করতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব) বাবুল চন্দ্র তালুকদার জানান হাসপাতালে এক্স-রেতে সরকারী খরচ
সিঙ্গেল ৫৫, ৭০ ও ডাবল ১৫০ টাকা। আলট্রাসনো ২৫০ টাকা ও ইসিজিতে ৮০ নেয়া হয়।

এব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন দীর্ঘদিন যাবৎ এক্স-রে,
আলট্রাসনো ইসিজি মেশিন অকেজ হয়ে পড়েছে। এতে রোগীদের সেবা পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
প্রায় এক বছর পূর্বে এক্সরে মেশিনটি বাতিল ঘোষনা করেছে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা। এবিষয়ে
উর্দ্ধতন দপ্তরে বহুবার লেখালেখি করেও কোন কাজ হয়নি। এখন নতুন করে ওই সব যন্ত্রপাতি পাওয়ার জন্যে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদা দিয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালটিতে জনবল সংকটতো পুরানো ব্যাপার বলে তিনি
জানান।