মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত ও প্রাসঙ্গিকতা

38

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু,লেখক কলামিষ্ট : মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন পীরে কামেল ও আধ্যাত্মিক নেতা। অনেকের মতো আমিও ছিলাম তাঁহার রাজনৈতিক অনুসারী, ভক্ত ও নগন্য শিষ্য। তাঁর সান্নিধ্যে এবং রাজনৈতিক আদর্শে যাদের দেখেছি, তাদের তুলনায় আমি অতি নগন্য অনুসারী। যদিও ভাসানী ন্যাপ সমর্থিত ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত ভাসানী ন্যাপের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয় যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক হককথা এবং তাঁর পুত্র আবু নাসের খান ভাসানী সম্পাদিত সাপ্তাহিক প্রাচ্যবার্তার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলাম। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চেও অংশগ্রহন করে থাকি। এক সময় মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত ভাসানী ন্যাপের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৯ সালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকি। মওলানা ভাসানীসহ তাঁহার পরিবার পরিজনদের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে স্মৃতি বর্ণনা করলে এ নিবন্ধে অন্য কিছু উপস্থাপন সম্ভব নয়। যা অন্য কলামে ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের প্রত্যয় রেখে, এ নিবন্ধে মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যু বার্ষিকীর আলোকে কিঞ্চিত বর্ণনা না করলেই নয়। এবার মওলানা ভাসানীর মাজার জেয়ারতে অন্যান্যদের মতো সাথে ছিলেন, মওলানা ভাসানীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনুসারী ও ভক্ত আমিরুজ্জামান জামান, ডাঃ আতিকুল সারোয়ার, মনোহরদীর অধ্যক্ষ শাহজাদা আতিকুল আলম ভূঞা, জালাল উদ্দিন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, ছিদ্দিক মিয়া, কাঞ্চন মাস্টার, ফারুক মিয়াসহ আরও অনেকে। সকাল ৯টায় আমরা টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছেই প্রথমে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করে থাকি। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকি, সন্তোষ মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ অনেক রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি, গণ্যমান্য ব্যক্তি সন্তোষ মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকে মাজার জিয়ারত করে থাকে।

মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। মাজার ফুলে ফুলে সুশোভিত হয়ে যায়। সেই দৃশ্য না দেখলে দুকথা লেখে বুঝানো বাস্তবিকই সম্ভব নয়। বয়োবৃদ্ধ অনেককে মাজারের ভেতর দেখা গেছে মোনাজাতের সময় কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যেন অভূতপূর্ব দৃশ্য। মওলানা ভাসানীকে কতটুকু ভালবাসলে ও শ্রদ্ধা করলে এমন হতে পারে তাও ভাবার বিষয়। মাজারের পাশে একটি বেঞ্চে অন্যান্যদের সাথে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দেখে সেখানে যাই। তখন তিনি বলতে ছিলেন, মওলানা ভাসানীর মতো নেতার আজ বড়ই প্রয়োজন ছিল। মাজার জেয়ারতকালে মওলানা ভাসানীর পরিবারবর্গকে মাজার জেয়ারতে দেখতে পাই। তখন সেখানে ছিলেন

মওলানা ভাসানীর বড় মেয়ে পাবনার এডভোকেট সবুর সাহেবের সহধর্মীনি, আরেক মেয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শামছুল হকের সহধর্মিনী, মওলানা ভাসানীর পুত্র আবু নাসের খান ভাসানীর সহধর্মিনী পারভীন খান ভাসানী, মওলানা ভাসানীর নাতনি রুমু, শিলু, পরশ, মুন ও আরও অনেকে। মাজার জেয়ারত শেষে এক সাথে আমরা সকলেই তাদের আয়োজিত খিচুড়ি খাই। তারপর লক্ষ্য করলাম, মাজারের পাশের খোলা চত্বরে যেখানে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশের প্রথিতযশা রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি, তাঁর অনুসারীসহ আরও যারা আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতেন, এবার সেটা হয়নি।

জানা যায়, এবার মাজার চত্ত্বরে আলোচনা সভার অনুমতি দেয়া হয়নি। তারপর সেখান থেকে মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক দরবার হলে গিয়ে দেখা যায়, মওলানা ভাসানীর অগনিত ভক্ত, শিষ্য ও অনুসারীরা বাউল, জারী ইত্যাদির আসর জমিয়ে গোটা এলাকার মানুষকে আনন্দ উল্লাসে মাতিয়ে রেখেছে। যা সত্যিই স্মরণ রাখার মতো। মওলানা ভাসানী জীবদ্দশাতে এই দরবার হলে সভা, সমাবেশ, প্রেস কনফারেন্স করতেন, আন্দোলনের ডাক দিতেন এবং এখান থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর নির্দেশনা ও বাণী পৌঁছে দিতেন।

এখান থেকেই ১৯৭৬ সালে ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চসহ অনেক রাজনৈতিক কর্মসূচী শুরু করেছিলেন তিনি। মওলানা ভাসানীর সাথেই রয়েছে তাঁহার সহধর্মিনী বেগম আলেমা ভাসানীর রওজা মোবারক। মাজারের অনতিদূরে পুকুরপাড়ে তাঁর পুত্র আবু নাসের খান ভাসানীর কবর। এই কবরের পাশেই মওলানা ভাসানীর নাতনি রুমুর বাসা ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য এবার দেখা যায়, রুমুর বাসাটি আর নেই। জানা যায়, সন্তোষ মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এই বাসা থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছে। যদিও মওলানা ভাসানীর সন্তান সন্ততি ও নাতি নাতনিদের যেমন টাঙ্গাইল বা সন্তোষে কোনো আশ্রয় খানা বা বাসা নেই, তেমনি রাজধানী ঢাকাতেও তাদের মাথা গোজার মতো ১ শতাংশ জায়গাও নেই।

মওলানা ভাসানী যখন এলাকার হাজার হাজার সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে সন্তোষের অত্যাচারী জমিদারকে উচ্ছেদ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সন্তোষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ জনকল্যাণার্থে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন। তখন নিন্দুকেরা প্রচার করতো ভাসানী সন্তোষের জমিদারি দখল করেছে। আজ দেখা যায়, ৪/৫ শতাংশ জায়গার ওপর তাঁরই নাতনি কোনো ভাবে মাথা গোজার ঠাঁই করে নিলেও, সেখান থেকে অবশেষে পরিবার পরিজনসহ চলে যেতে হয়েছে। যার অফুরন্ত দুঃখ বেদনার শেষ থাকেনি। আর যে ছনের ঘরে ও চালার চটের বেড়া দিয়ে মওলানা ভাসানী তাঁর সহধর্মিনী, ছেলে মেয়ে ও নাতি নাতনিদের নিয়ে বসবাস করতেন, তারও তেমন কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। আজও বাঁশের খুঁটি, বাঁশের বেড়াসমেত কোনো মতে দুচালা টিনের ঘরই দৃশ্যমান। মওলানা ভাসানীর জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সংগ্রাম, আন্দোলন, রাজনীতি ও জীবন ব্যবস্থাই একটি দর্শন। এ নিয়ে দেশ বিদেশের অগনিত পন্ডিত, বুদ্ধিজীবি, লেখক ও রাজনীতিকরা অনেক বই পুস্তক লেখে গেছেন। তন্মধ্যে ভাসানী যখন ইউরোপে, চীন দেশে ভাসানী, গণমানুষের মহান নেতা ভাসানী, স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা ভাসানী ও অধ্যাপক আবুল কালাম ইলিয়াছ রচিত অনেকগুলো বই পুস্তক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আরও অনেকের রচিত বই পুস্তক আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এমনিভাবে আসামের ভাসান চরের দুঃখী, নিরন্ন ও অসহায়দের নিয়ে রয়েছে মওলানা ভাসানীর আন্দোলন, সংগ্রাম। যা এ নিবন্ধের সংক্ষিপ্ত কলেবরে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এবার মাওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে একান্তভাবে কথা হয় তাঁর পুত্রবধু শ্রদ্ধেয়া পারভীন খান ভাসানী, নাতি ও নাতনি পরশ, রুমু, শিলু ও মুনের সাথে। তারা বলেছেন, সন্তোষে যেমন মাওলানা ভাসানীর রেখে যাওয়া বসবাস করার মতো আমাদের কিছুই নেই, তেমনি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথায়ও কোনো জায়গা জমি নেই। তাতে আমাদের কোনো দুঃখ, বেদনা ও অনুশোচনা নেই। আমাদের গর্ব, আমরা মওলানা ভাসানীর আওলাদ। মওলানা ভাসানীর মেয়ে, পুত্রের সহধর্মিনী ও তাঁর নাতি নাতনি হিসেবেই আমাদের গর্ব। দেশের মানুষ দেখুক মুকুটহীন স¤্রাট মওলানা ভাসানী, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী, স্বৈরাচার ও একনায়ক আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের রূপকার ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা ভাসানী তাঁর পরিবার পরিজনের জন্য কিছুই রেখে যাননি। পরিশেষে পরিবারের সবাই বলল, আমরা যেন মওলানা ভাসানীর আদর্শকে লালন পালন ও ধরে রাখতে পারি ইহাই আমাদের অনাবিল প্রত্যাশা। প্রতি বছর আপনারা মওলানা ভাসানীর মৃত্যু বার্ষিকীতে সামিল হন, তা দেখে আমরা সকলেই আনন্দিত। যদি বেঁচে থাকেন তবে আগামী মৃত্যুবার্ষিকীতেও সন্তোষে আসবেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। অবশেষে তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার সময় মাজারের পাশের দোকান থেকে আমাদিগকে মওলানা ভাসানীর ওপর লেখা কিছু বই পুস্তক, ম্যাগাজিন, স্মরনিকা ও তবারক দেয়া হয়ে থাকে।

মওলানা ভাসানী সম্পর্কে একটি ঘটনার স্মৃতি রুমন্থন না করলেই নহে। জানা যায়, শেখ মুজিবুর রহমান মওলানা ভাসানীর সন্তান তুল্য ছিলেন। তিনি তাঁকে যত সমালোচনাই করুক না কেন শেখ মুজিবুর রহমান মাঝে মধ্যেই ভাসানী

হুজুরের জন্য জিপ বোঝাই নানা ফলমুল, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী ও টুপি কিনে পাঠাতে ভুলতেন না। শেখ মুজিবুর রহমান জানতেন, কখন কী মওলানা ভাসানী হজুরের প্রয়োজন। একবার শেখ মুজিবুর রহমান ভাসানী হুজুরকে শুধালেন, আপনার কী প্রয়োজন, কী দরকার তাতো কখনও বলেন নি। হুজুর তখন সন্তোষে প্রতিষ্ঠিত (কাগমারি কলেজ) মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজেকে জাতীয় করণের কথা জানালেন। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান টাঙ্গাইলে এলেন। এ উপলক্ষে মওলানা ভাসানী তার সন্তোষ দরবার হলে সবার জন্য রান্নার ব্যবস্থা করেন। রান্না করে ভাত তরকারি নৌকায় রাখা হয়। এলাকাটি নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া। এর মধ্যে হুজুর ভাসানী পুলিশের আইজি ই.এ চৌধুরীসহ খাবার এলাকা দেখতে গেলেন। খেয়াল করলেন, একজন উ™£ান্ত যুবক ঘুরাফেরা করছে। হুজুর ভাসানী টাঙ্গাইলের ডিসিকে বললেন, এখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী আসছেন অথচ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো বালাই নেই। ওই যে ছেলেটি ঘুরছে ও ভেতরে ঢুকল কী করে ? ডিসি জবাব দিলেন, ছেলেটা পাগল। এ কথা শুনে হুজুর ভাসানী বললেন, ওতো তালের পাগলও হতে পারে।

শেখ মুজিবুর রহমান চখা (পাখী) পছন্দ করেন। তাই হুজুর ভাসানী যমুনার চরে দুজনকে ভোর রাতে চখা মারতে পাঠিয়ে দেন। ঘোষকে দই দিতে বলেছিলেন তাও তার পছন্দ হল না। ধমকালেন ডিসিকে। সবশেষে শেখ মুজিবুর রহমান খেতে আসতে দেরী করছেন দেখে হুজুর নিজেই চলে যান তাঁহাকে আনতে। সভাস্থলে (কাগমারী কলেজ ময়দানে) সবাই তটস্থ। শেখ মুজিবুর রহমান হুজুরের জন্য চেয়ার খালি করে দিলেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান হুজুর ভাসানীকে বক্তৃতা করতে বললেন। সভা শেষে হুজুর ভাসানী শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে মঞ্চ থেকে এলেন। সামনেই পড়ল মাজার। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মাজার জিয়ারত করতে বললেন। মাজার জিয়ারত করে শেখ মুজিবুর রহমান ভাসানী হুজুরের বুকে মুখ গুজলেন। স¯েœহে পিতা পুত্রের আলিঙ্গন দেখে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেল। এ যেন হাজার বছরের মধুর সম্পর্ককেও ম্লান করে দেয়। তারপর দুজনেই চলে আসেন সন্তোষের দরবার হলে। শেখ মুজিবুর রহমান ও হুজুর ভাসানী খেতে বসলেন। সেকী অদ্ভুত দৃশ্য। আজও তা অনেকেই ভুলতে পারেনি। এই দৃশ্যকে স্মরণযোগ্য করে রাখার জন্য দেশী বিদেশী সাংবাদিকগণ ফটো তোলার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। ক্যামেরার ক্লিক শব্দ ও ফ্ল্যাশলাইটে দরবার হল আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠার অপরূপ দৃশ্য আজও ক্যামেরায় বন্দী হয়ে আছে। দুজনেই একসাথে বসলেও, হুজুর ভাসানী একহাতে পাখা। হুজুর ভাসানী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একহাতে বাতাস করছেন এবং আরেক হাতে পছন্দের খাবার তুলে দিচ্ছেন। এইতো গুরু শিষ্যের অভূতপূর্ব ¯েœহ। যা দেখল মানুষ চোখ মেলে অপলক দৃষ্টিতে। সবাই বুঝল, হুজুর ভাসানী যাহাই বলুন না কেন কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান যাহাই ভাবুন, রাজনৈতিক চিন্তায় পিতা পুত্রের স¯েœহ ও সম্পর্কতো ঠিকই আছে। যা বর্তমান সময়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের রাজনীতিকদের এ চিন্তা করলে অবাক ও বিষ্ময় হওয়া ছাড়া ভাবার যেন কিছু অবশিষ্ট নেই। আর রাজনীতিও আজ সেই জায়গায় নেই। আজ রাজনীতির মধ্যে চলে এসেছে মিথ্যাচার, গড্ডালিকা প্রবাহ, ক্যাসিনো কেলেংকারী ও অন্যান্য দিকদর্শন।

একথা সত্য বিভিন্ন সময়ে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শ থেকে অনেকেই সরে গিয়ে বা বিভ্রান্ত হয়ে নিজে রাজনৈতিক দল করে বা অন্য রাজনৈতিক দল, ফ্রন্ট জোটের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অনেকেই অনেক সময় মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী হলেও পরবর্তী সময় মওলানা ভাসানীর জীবদ্দশাতেই অনেকেই যেমন ভুল স্বীকার করেছে, তেমনি হুজুর ভাসানীর মৃত্যুর পর যারা জীবিত আছে তাদের মধ্যে অনেকেই মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আজও সন্তোষের মাজারে এসে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়। এমনকি তাঁহার অনুসারী, ভক্ত ও শিষ্যদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের পুত্র, কন্যা ও পরিজনদের অনেককেই প্রতি বছর ১৭ নভেম্বর হুজুর ভাসানীর মাজার জিয়ারত করতে দেখা যায়।

মানুষ মরণশীল। তবে আমার মতো আরও অনুসারী যতদিন বেঁচে থাকবে, হুজুর ভাসানীর মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁহার মাজার জিয়ারতে যেমনি ভুল হবে না, তেমনি মওলানা ভাসানীর জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি জীবন ব্যবস্থাই দর্শন হিসেবে প্রতিফলিত হবে। মজলুম জননেতা হুজুর ভাসানী শুধু আমার রাজনৈতিক আদর্শের মহান শিক্ষকই নহেন, আমি তাঁর ভক্ত ও অনুসারীও। মওলানা ভাসানী আজীবন আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, ঔপনিবেশবাদ, আগ্রাসনবাদ, সামাজিক সা¤্রাজ্যবাদ, সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী, প্রগতিশীল চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী ও স্বৈরাচার বিরোধী আপোষহীন সিপাহসালার। তিনি মহান স্বাধীনতার স্বপ্ন দ্রষ্টা। স্বৈরশাসক ও পাকিস্তানের একনায়কদের আসসালামু আলাইকুম দিয়ে বিদায় জানানোর কিংবদন্তির মহানায়ক। যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী।