ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈলে কদর বাড়ছে নারী শ্রমিকদের

368

মোঃ মজিবর রহমান শেখ,, নারী শ্রমিকেরা অনেক পরিশ্রমী এবং কম মজুরিতে তাদের পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের কদর বাড়ছে। তারা মাঠে কাজ করে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পান। শীত সামনে রেখে জমিতে রসুন বুনছেন নারী শ্রমিকেরা। ১১ ডিসেম্বর শনিবার রাণীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া গ্রামে গেলে এমন দৃশ্য দেখা পাওয়া যায়। এক সময় ঘর-সংসার সামাল দেয়ায় ছিল তাদের একমাত্র কাজ। উপার্জনের বিষয়টি দেখতেন বাড়ির পুরুষ কর্তা। এই একক আয়ে অভাব, অনাটন ছিল নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা সামাজিক দুর্যোগ। ফলে বাধ্য হয়ে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে তাদের আসতে হয় ফসলের মাঠে। পরিচয় দাঁড়ায় নারী কৃষি শ্রমিক হিসেবে। ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার এখন এক পরিচিত দৃশ্য নারীদের মাঠে কাজ করা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নারী শ্রমিকেরা অনেক পরিশ্রমী এবং কম মজুরিতে তাদের পাওয়া যায়। এ কারণে দিন দিন তাদের কদর বাড়ছে। রানীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর রাতোর নন্দুয়ার নেকমরদ হোসেনগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকেই স্বামীর সঙ্গে তারাও কৃষিশ্রমিকের পেশা বেছে নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন শস্যের বীজ বপন ও ফসল সংগ্রহসহ সব ধরনের কৃষিকাজ করেন।
১১ ডিসেম্বর শনিবার সকালে যাওয়া হয় ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া গ্রামে। সেখানে বসতবাড়ি আর গাছপালার ফাঁক দিয়ে তাকাতেই চোখে পড়ে দিগন্তজুড়ে কৃষি খেত। এসব খেতে কাজ করছিলেন নারীরা। পরিবারের অভাব কিছুটা দূর করতে তারা দল বেঁধে প্রতিদিন এই কাজ করেন। কয়েকজন নারীকে দিয়ে জমিতে রসুন আর ভুট্টা বোনার কাজ করাচ্ছিলেন মন্ডলপারা গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, এসব নারী কৃষি শ্রমিক হিসেবে পরিচিত। রোজ সকালে তারা রান্নাবান্না সেরে সন্তানদের খাইয়ে দলবেঁধে কাজে বেরিয়ে পড়েন। পাঁচ থেকে ১০ জনের প্রতিটি দলে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে দুই থেকে তিনজন পুরুষ শ্রমিক থাকেন। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলে তাদের শ্রম দেয়া। জোতপাড়া গ্রামের ছাহেরা বেগম (৪৬) বলেন, ‘১০ বছর আগে স্বামী মারা যায়। এরপর সংসারে উপার্জন না থাকায় অভাব অনাটন নেমে আসে। তখন থেকে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি। মাঠে কাজ করে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পাই। সেই টাকায় সংসার চলে।’রাতোর গ্রামের মিনতী রানী (৪০) জানান, আটজনের পরিবার তার। স্বামীর একার উপার্জন দিয়ে সংসার চলে না। মিনতীকে তাই অভাবী সংসারে একটু সচ্ছলতা আনতে এই কৃষি শ্রমিকের পেশা বেছে নিতে হয়েছে। রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, নারী কৃষিশ্রমিকেরা অনেক পরিশ্রমী। এ ছাড়া তাদের তুলনামূলক কম মজুরিতে পাওয়া যায়। এ কারণে কৃষকদের কাছে নারী শ্রমিকদের কদর বেশি।