রঙ বাহারি ফুল গ্লাডিওলাস

23


ছবি ও লেখা : মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে জনপ্রিয় ফুলের মাঝে গ্লাডিওলাস অন্যতম এক ফুল। গ্লাডিওলাস যদিও বিদেশি ফুল তথাপি আমাদের দেশের আবহাওয়ায় চাষ উপযোগী ও এর চাহিদা বেশি থাকার ফলে শুরু হয়েছে এ ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। ফলে একদিকে এর বাণিজ্যিক চাষাবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে অন্যদিকে বিজ্ঞানীগণ এর নতুন নতুন জাত আবিস্কারে রাখছেন ভূমিকা। উন্নত জাতের গ্লাডিওলাসের মাঝে বারি গ্লাডিওলাস-১, বারি গ্লাডিওলাস-২ ও বারি গ্লাডিওলাস-৩ উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া এ জাতগুলো সারাদেশে চাষ উপযোগী জাত। গ্লাডিওলাস ফুলের চাহিদা দিন দিন যেনো বেড়েই চলছে। রং বাহারি এ ফুল দিয়ে সাজানো হয় ফুলদানি, তোড়া, গেইট, বাসর সজ্জা, মঞ্চসজ্জা সহ নানান অনুষ্ঠান। এ ফুলের আদিনিবাস দক্ষিণ আফ্রিকা। পরিবার ওৎরফধপবধব, উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম এষধফরড়ষঁং ঢ়ৎরসঁষরহঁং। গ্লাডিওলাস কন্দ জাতীয় ফুল গাছ। ভূগর্ভস্থ কন্দ থেকে পাতা ও ফুলের ডাঁটা বের হয়। কন্দের মাধ্যমে হয় এর বংশ বিস্তার। এর পাতার রং উজ্জ¦ল সবুজ, আকারে লম্বা ও ছুরির মতো, অগ্রভাগ সূচালো। ফুলের গাছ ও ডাঁটা দৈর্ঘ্য গড়ে ৩ থেকে ৪ ফুট হয়ে থাকে। ফুল ডাঁটার নীচ থেকে প্রথমে ফোটতে শুরু করে ধীরে ধীরে উপরের গুলো ফোটে এবং ডাঁটায় ফুলগুলো সুন্দর ভাবে সাজানো থাকে। ফুল গন্ধহীন। পাঁচ বা তার বেশি নমনীয় কোমল পাপড়ির সমন্বয়ে সৃষ্ট গ্লাডিওলাস ফুল। মাঝে পরাগ অবস্থিত। সারাবছর ধরে গ্লাডিওলাসের ফুল ফোটে। তবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে বেশি ফুল ফোটে। রঙ বাহারি এ ফুলের রয়েছে লাল, নীল, গোলাপি, সাদা, হলুদ, কমলা ও মিশ্র রঙের ফুল। প্রায় সব ধরনের উর্বর মাটিতে চাষ করা যায়। তবে রৌদ্রউজ্জ¦ল পরিবেশ, উঁচু জমি, উর্বর সুনিস্কাশিত দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটি গ্লাডিওলাস চাষে উপযোগী।