শৈশব

373


নূর আলম গন্ধী:

শৈশবের দিগুলিতে দুরন্তপনায় মেতে উঠেছি আমরা কতই না
অনুষঙ্গকে সাথি করে।

কখনো’বা বল খেলা, ঘুড়ি উড়ানো, লাঠিম ঘুড়ানো, মার্বেল খেলা, ডাংগুলি খেলা, ডুব
সাঁতারে, গোল্লাছোট খেলায়, গাছের মগ ডালে হানা,
ঝড়ের দিনে ফল কুড়ানো, বন-জঙ্গলে ঘুরে পাখির ছানা ধরা
এবং কাঁদাজলে নেমে জলকেলির মতো নানান খেলায় মিশে
যেতাম নিজেরই অজান্তে। আর এসবের মাঝে খুঁজে পেতাম
অনাবিল সুখ, যা বলে বুঝানো কঠিন। নিষেধ বারণ শুনতে
ছিলাম নারাজ। আর নিষেধ ভেঙে দুরন্ত ছুটে চলাই ছিল
যেন শৈশবের আপন নিয়ম।

শিশু-কিশোর মন কোমল আর সহজ-সরলে গড়া তাই
তো তারা প্রকৃতি অথবা অন্যান্য অনুষঙ্গকে আপন করে
নেয় খুবই কম সময়ের মাঝে। আর এসব কিছুর সাথে গড়ে
তুলে তাদের নিবিড় সখ্যতা। ফলে নানান খেলার পাশাপাশি
তারা মিশে যেতে পারে দিগন্তের সবুজ প্রান্তর, অনাবিল
ঘাস, মাটি, বিশাল আকাশ, নদী, ঝরনাধারা, মাঠ-ঘাট, খাল
ও বিলের শান্তজলে ফুটে থাকা শাপলা, পদ্ম ও কলমিলতায়। এ
অবারিত বিচরণের সুযোগ এনে দেয় তাদের শারীরিক
সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি। ফলে তারা বিকশিত হবে
সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে।

প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে যা শতভাগ প্রযোজ্য তা হলো যার শৈশব যত বেশি আনন্দময় হবে তার
শারীরিক ও মানসিক বিকাশ শক্তি তত বেশি মজবুত হবে।
তাই শিশুদের উত্তমরূপে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে আমাদের উচিত
লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদেরকে সুযোগ করে দেয়া যেনো
সকল কিছুর মাঝে তারা আনন্দে বেড়ে উঠতে পারে। আর
আমরা সবাই নিশ্চিতভাবে জানি শিশু-কিশোরদের
মানসম্মত বিকাশ মানেই আগামীর সুস্থ সবল জাতি।