বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও প্রাসঙ্গিকতা

71

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু, লেখক কলামিষ্ট : বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে কারাগারে রয়েছেন। জানা যায়, বয়স, শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় ও মানবিক কারণে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন চেয়ে ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টে আবেদন করে তার আইনজীবীরা। ফলে আপীল বিভাগের চেম্বার আদালত ১৮ নভেম্বর আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জামিন আবেদনটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভূক্ত হয়। এরপর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপীল বিভাগের বেঞ্চে ২৮ নভেম্বর এ শুনানি হয়। এদিন ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন শুনানি মূলতবি করে আদালত। এ সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

৫ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ যথারীতি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল না করে আদালতে সময় চায়। আদালত ১২ ডিসেম্বর শুনানীর পরবর্তী দিন ধার্য করে এবং এর আগেই মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এরই মধ্যে মেডিকেল প্রতিবেদন আসলে প্রধান বিচারপতির সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হলে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে তা খারিজ করে দেয়া হয়। তবে বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করে আদালত। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন ছাড়াও আরও অনেকেই খালেদা জিয়ার জামিনের ব্যাপারে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আরও অনেকে।

জানা যায়, শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেছেন, আপীল বিভাগ ১০ বছর সাজার আসামীকেও জামিন দিয়েছে। পাকিস্তানের মতো বর্বর দেশেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকেও মেডিকেল গ্রাউন্ডে জামিন দিয়েছে আদালত এবং সুচিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠিয়েছে। মানবিক কারণে আমরা তার জামিন চাচ্ছি। তিনি আরও বলেছিলেন, এই আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। খালেদা জিয়া একজন সুস্থ মানুষ ছিলেন। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আরও বলেছেন, আমি ডাক্তার না। তবু যেটুকু বুঝি খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা দরকার। তার অবস্থা এমন তিনি পঙ্গু অবস্থায় চলে গেছেন। হয়তো ছয় মাস পর তার অবস্থা আরও খারাপ হবে। মানবিক কারণে তাহাকে জামিন দেয়া হোক। খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেছেন, আমাদের দেশের বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে রাজনীতি করলে জেলে যেতে হবে। রাজনীতি আর জেল পাশাপাশি। জেলে থাকলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। আর ক্ষমতায় থাকলে তার চেয়ে ভালো মানুষ আর নেই। অসুস্থ ও বয়স্ক নারী খালেদা জিয়া। তাহাকে জামিন দেয়ার জন্য তিনি আদালতের নিকট আবেদন জানান।

জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল খালেদা জিয়ার আগের ও বর্তমান দুটি মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। আদালতে এ্যাটর্নি জেনারেল মেডিকেল প্রতিবেদনের সারমর্ম উপস্থাপন করে বলেছেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে তা দীর্ঘ মেয়াদি রোগ। এর ফিরিস্তি আদালতকে পড়ে শুনান তিনি। খালেদা জিয়া ডায়াবেটিসে ভোগছেন ২০ বছর ধরে। উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন ১০ বছর ধরে। আথ্রাইটিসে ভুগছেন ৩০ বছর ধরে। মেডিকেল প্রতিবেদন বলছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার আর যেসব রোগ সেগুলোর চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব। তিনি অনুমতি দিচ্ছেন না বলে চিকিৎসকরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারছেন না। জামিন আবেদনের বিরোধীতা করে এ্যার্টনি জেনারেল আরও বলেছেন, দুই মামলায় তিনি ১৭ বছরের কারাবাস ভোগ করছেন। এটাকে শর্টসেনটেন্স বলা যায় না। তাছাড়া দুই মামলাই আপীল শুনানীতে রেডি। এমতাবস্থায় জামিন হওয়া উচিত নয়। অপর দিকে দুদকের আইনজীবী সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট থেকে উদ্বৃত করে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার সম্মতি পাওয়া পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারছেন না। আমরা তার জামিন আবেদন নাকচ করার আর্জি জানাচ্ছি।

জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর এ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদন্ড দিয়েছেন নিম্ন আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপীল করেছেন। সে আপীলে তিনি জামিন চেয়েছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ সে জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পক্ষে একটি লিভ টু আপীল করা হয়েছিল। সেখানে তার জামিন চাওয়া হয়েছিল। আদালত ১২/১২/২০১৯ ইং জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া যদি রাজি থাকেন তাহলে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা যেন তাকে উন্নত চিকিৎসা দেন সে আদেশ দিয়েছে আদালত। মেডিকেল প্রতিবেদনে কি বলা আছে, এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার দুটো হাঁটুই রিপ্লেস করা হয়েছে। একটা ১৯৯৭ সালে, অপরটা ২০০২ সালে। এটা ভালো হওয়ার অবস্থানে নেই। স্বাভাবিকভাবে এত দিন পর রিপ্লেসমেন্টের কার্যকারিতা থাকে না। সেক্ষেত্রে এটার এ্যাডভান্স চিকিৎসা নিতে হয়। কতগুলো বিশেষ ধরণের ইনজেকশন আছে, সেসব ইনজেকশন দিতে হবে। কিন্তু তার অনুমতি না পেলে তা দেয়া সম্ভব নয়।

এদিকে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ্য ও পঙ্গুত্বের ব্যানারে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ০৪/১২/১৯ ইং বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে। লিখিত বক্তব্যে এ সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডাঃ সরকার মাহবুব আহমদ শামীম বলেছেন, খালেদা জিয়া এত অসুস্থ যে, তিনি কারও সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, খাওয়া এমনকি তীব্র ব্যথার কারণে ভালোভাবে ঘুমাতেও পারছে না। যে কোনো সময় স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশংকা রয়েছে। তাহাকে মুক্ত পরিবেশে থাকার জন্য জামিনে মুক্তি দিয়ে পছন্দ মতো হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার কথা ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাইলি এ্যাক্টিভ ডিফরমিং, রেমাটায়েড, আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশনসহ বেশ কয়েকটি রোগে ভুগছেন। তিনি কারাগারে সঠিক চিকিৎসা ও স্বাভাবিক পরিবেশ না পাওয়ায় রোগ সংক্রান্ত মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে। রোগ জটিলতার কারণে হাত পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে। তাতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। যার কারণে জয়েন্টগুলো শক্ত ও বাঁকা হতে চলছে। যা কি না অচিরেই স্থায়ীরূপ ধারণ করতে পারে। ড্যাবের ডাক্তার শামীম আরও বলেছেন, বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ডাক্তাররা খালেদা জিয়ার ওজন মাপতে বারবার চেষ্টা করলেও তীব্র ব্যথায় তিনি বিছানা থেকে নামতে পারেননি। ভয়ংকর ব্যাপার হল, উনার ডান পায়ে একটি গুটি উঠেছে। যাকে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় রিউমেটিক নোডিউল বলে। যা স্পর্শ করা মাত্রই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। যেটি পরবর্তীকালে ভাংকুলাইটিস উইক সেভ গ্যাংগিনে পরিণত হতে পারে। তাহার সঠিক চিকিৎসাই ভয়াবহ রোগ মুক্তির পথ বলে তিনি মনে করেন। এতে দেখা যায়, বিএসএমএমইউ’র ডাক্তাররা ১২/১২/২০১৯ ইং আদালতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং এ্যাটর্নি জেনারেলর কাছ থেকে যা শুনা গেছে তা ১৩/১২/১৯ ইং দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অপর দিকে ০৪/১২/২০১৯ ইং বুধবার ড্যাবের ডাঃ সরকার মাহবুব আহমদ শামীম সাংবাদিক সম্মেলনে যে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন তাও দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ০৫/১২/২০১৯ ইং বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যায়, বিএসএমএমইউ’র ১২/১২/১৯ ইং আদালতে খালেদা জিয়ার রোগ সম্পর্কে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তাতে ড্যাবের ডাক্তার শামীমের বক্তব্যের মধ্যে যথেষ্ট ফারাক রয়েছে। এ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, খালেদা জিয়া ৩০ বছর ধরে আথ্রাইটিসে ভুগছেন। দুটো হাঁটুই রিপ্লেস করা হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই এতদিন পর রিপ্লেসমেন্টের কার্যকারিতা থাকেনা। সেক্ষেত্রে এটার জন্য এ্যাডভান্স চিকিৎসা নিতে হয়। কতগুলো বিশেষ ধরণের ইনজেকশন আছে। যেসব ইনজেকশন দিতে হবে। তার অনুমতি না পেলে তা দেয়া সম্ভব নয়। অপরদিকে ড্যাবের ডাক্তার শামীম বলেছেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ঘরে হাইলি এ্যাক্টিভ ডিফরমিং, রেমাটায়েড, আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও হাইপার টেনশনে ভুগছেন। তাছাড়া রিউমেটিক নোডিউল বলে একটি ভয়ংকর রোগে ভুগছেন। যা পরবর্তী সময় ভাংকুলাইটিস উইক সেভ গ্যাংগিনে পরিণত হতে পারে।

তাতে দেখা যায়, বিএসএমএমইউ’র ডাক্তাররা খালেদা জিয়ার হাঁটু নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন এবং ড্যাবের ডাক্তার শামীম রিউমেটিক নোডিউল সম্পর্কে যে ভয়ংকর বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তাতে দুটি সমস্যাই মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় জটিল রোগ হিসেবে বিবেচিত। যেকোন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত গুরুত্ব বিবেচনা করে মানবিক কারণে কাহাকেও জামিনে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ারকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বিচার বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক অর্গান। জাতির রক্ষা কবচ ও জাতির মেরুদন্ড। বিচার বিভাগ আমাদের গর্ব ও অহংকার। বিচার বিভাগের আইনানুগ দৃষ্টি ভঙ্গি, মানবতা, উদারতার কারণে ইতোমধ্যে অনেকেই মিথ্যা, সাজানো ও ক্যামোপ্লেক্স মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। যার রয়েছে জাহালমসহ বেশ উদহারণও দৃষ্টান্ত। এমনকি মানবিক কারণে অনেক সময় ফাঁসির আদেশের আসামীকেও জামিনে মুক্তি দেয়ার কথা শুনা যায়।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ নিয়ে বিএসএমএমইউ ডাক্তারদের সর্বশেস প্রতিবেদন ও ড্যাবের ডাক্তার শামীমের বক্তব্যের মধ্যে যথেষ্ট অমিল লক্ষ্য করা যায়। বেগম খালেদা জিয়াই নহে যেকোনো রোগীর ব্যাপারে এমন দ্বৈত অভিমত কারও কাম্য নহে। যে বিষয়টি অনেককেই ভাবিয়ে তুলছে। এ বিষয়টির ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ গুরুত্বই এর নিরসন করতে পারে বলে বিজ্ঞজনদের অভিমত। দেশের ডাক্তার বা চিকিৎসকরা দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অর্গান। যদি কোনো কারণে ডাক্তারদের দ্বৈত মতামতের কারণে জনমনে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এবং কোনো কারণে কোনো রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হয় বা বিঘ্নঘটে তবে তাতে রোগী ও রোগীর স্বজনদের দুঃখ কষ্ঠের আর কিছু অবশিষ্ট না থাকারই কথা। অনেক কিছুতে রাজনীতি থাকলেও, মানবিক কারণে সেবার এ মহান পেশায় কোনো রাজনীতি কারও প্রত্যাশা নহে। দলমত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে ডাক্তাররা সমাজের সেবা ও মানবতার দর্পন।

মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ডাক্তার ও বিচারকদের অবদান কোনো অংশেই কম নহে। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি বি.এ সিদ্দিকি নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও কষাই টিক্কা খানকে শপথ গ্রহণ করাননি। তিনি বলেছিলেন, “আমার মৃত্যু হলেও কোনো মতেই টিক্কা খানের মতো নর রাক্ষস ও কষাইকে শপথ গ্রহণ করাবো না।” দেশের মানুষ আজও গভীর শ্রদ্ধার সাথে তা স্মরণ করে থাকে। যেকোনো ব্যাপারে রাজনীতি, দ্বৈততা ও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে মানবতা, সেবা ও নিরপেক্ষ মনমানসিকতাই কাম্য। ডাক্তার ও বিচারকদের গুরুত্ব, সম্মান ও মর্যাদা অপরিসীম। যদি কোনো লঘু জখমী রোগীর ব্যাপারে কোনো ডাক্তার জেনে, না জেনে বা ভুল বশতঃ ৩২৩/৩২৪ ধারায় মামলা হওয়ার উপাখ্যানের সাথে জামিন অযোগ্য দন্ডবিধির ৩২৬ ধারায় মামলা হওয়ার মতো মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) দিয়ে থাকে তারপরও কোনো ভূক্তভোগী ডাক্তারকে দোষারোপ করার তেমন সুযোগ থাকেনি। একজন ডাক্তারের পেশাগত সে ক্ষমতা রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারও এক্ষেত্রে অনেক সময় প্রযোজ্য হয় না। তেমনিভাবে কোনো আদালত যদি কোনো মামলায় কারাদন্ড, জামিন বা মুক্তি দিয়ে দেয় বা প্রত্যাখান করে তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য, আইনের পরিভাষায় ঈড়হঃবসঢ়ঃ ড়ভ ঃযব পড়ঁৎঃ বা আদালত অবমাননারই সামিল। তবে যে কোন মামলার রায়ের ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপীলের সুযোগ রয়েছে। ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই, বাছাই করার সুযোগ থাকলেও টেকনিক্যাল কারণে অনেক সময় তা হয়ে ওঠে না বলে জানা যায়। ইহা একটি লম্বা প্রক্রিয়াও (খধহমষু ঢ়ৎড়পবংং) বটে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে একটি মামলার রায়ের ব্যাপারে বিচারক তদবির ও নির্দেশনা সহ্য করতে না পেরে এজলাসে বসেই এই অনুশোচনায় নিজের পিস্তল দিয়ে বুকে গুলি করে থাকে। তিনি বিশ্ববাসিকে দেখিয়ে দিয়েছেন বিচারক ও বিচার বিভাগ কত স্বচ্ছ ও স্বাধীন। যা বিচারক ও বিচার বিভাগের জন্য ইহা একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পরিশেষে বলব, দেশের মানুষ আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। যে কোনো বিচার ও চিকিৎসার ব্যাপারে সুমহান কর্মের মাধ্যমে তাদের নিরপেক্ষতা, গুরুত্ব, সম্মান ও মর্যাদা প্রসারিত হোক ইহাই জন প্রত্যাশা। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক স্তম্ভ ও জাতির পথ নির্দেশক।