শাহিনের রঙ চা

317

জহুরুল হক মিলু, নড়াইল প্রতিনিধি : শাহিনের ‘র’চা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সবার কাছে সমাদৃত। বিশেষভাবে তৈরি এই রং চা লোহাগড়াসহ বিভিন্ন শহর থেকে আগত মানুষের কাছে ও পরিচিতি পেয়েছে। লোহাগড়ার মানিকগঞ্জ বাজারের প্রাণ কেন্দ্র সুপার মার্কেটের সামনে ছোট একটি দোকানে বসে শাহিন চা বিক্রি করেন। চায়ের সাথে কপি ও বিক্রি হয়। দুধ চা, রং চা এবং কপি এ তিনে মিসেই তার ব্যবসা। চায়ের পাশা পাশি রুটি, কলা, বিস্কুট বিক্রি করেন। শাহিন লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের বাবু আলীর ছেলে।
বিশ বছর ধরে শাহিন চা বিক্রি করছেন। বাবার হাত ধরে দোকানে আসলেও এখন তিনিই উত্তরসুরী। চা বিক্রি করতে করতেই একদিন বিশেষ ধরনের রোসপিতে ‘র’চা তৈরী শুরু করেন। পরবর্তীতে তার সফলতা ও আসে। শহরে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে এই রং চা। মূহুর্তেই ছোট শহর লোহাগড়ার সর্বত্র শাহিনের চা এর কথা চাউর হয়ে যায়। সবাই ভিড় জমায় তার দোকানে। এক চুমুকে তৃপ্তিতে ভরে ওঠে মন। অনেকেই ফিরে ফিরে আসে শাহিনের চায়ের দোকানে চা খেতে। চায়ের অভ্যস্ত নয় তারাও রং চা ক্ষতিকর নয় ভেবে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ব্যাংক, বীমাসহ অন্যান্য অফিস গুলো থেকেও অর্ডার আশা শুরু হয়। শীতের কনকনে হাওয়ায় শাহিনের রং চা বাড়তি আমেজ এনে দেয়। শাহিন জানালেন তার চায়ের রহস্য। খাঁটি মধু দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তিনি এ চা তৈরী করেন।
চার ভাই-বোনদের মধ্যে শাহিন বড়। বোনের বিবাহ দিয়েছেন। মা-বাবা ভাই-বোন নিয়ে সংসার মোটামুটি ভালোই চলছে।শাহিন বিবাহ করেছেন। তার তিনটি কন্যা সন্তান। সবাইকে নিয়ে সুখেই দিন কাটছে তার। পরিশ্রর্মী শাহিন পুরো সংসারের হাল ধরছেন। ভোর না হতেই উনুনে গরম পানি বসাতে হয় দোকানে। রাত ১০টা পর্যন্ত বিরতিহীন জলে বেচা কেনা। প্রতি দিন ৪শ’ থেকে ৫শ’ কাপ চা বিক্রি হয়। ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা আয় হয়। শাহিন জানালেন এ আয়ে বৃদ্ধ বাবা-মাসহ সবাইকে নিয়ে ভালোই কেটে যায় তার সংসার। তিনি এ পেশায় জড়িত থাকলেও মেয়েদের পড়ালেখা শিখিয়ে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চান।
লোহাগড়া উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের মো. সেকেন্দার মোল্যা বলেন, আমি প্রতিদিন সকাল-বিকেল ২ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে হেঁটে মানিকগঞ্জ বাজারে চা পান করার জন্য যায় শাহিনের দোকানে। আমার মতো শত শত লোকজন চা পান করতে আসে এ দোকানে । তার চায়ের কোনো জুড়ি নেই। এক চুমুকে তৃপ্তিতে ভরে যায় মন। যে যেরকম চা পান করতে চান সে সেরকম চা তৈরি করে দেন।
শিক্ষক টগর আলী বলেন, আমরা শিক্ষকরা শাহিনের দোকানের চা পান করি এবং আমরা এ চা পানে অনেক তৃপ্তি পাই। আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও কোনো অতিথি আসলে তারাও এই দোকানের চা পান করতে ভালবাসে। তার দোকানের চার গুনগতমান ভাল, তাই আমরা প্রতিদিন সকাল-বিকেল চা পান করি। তার চায়ের কোনো তুলনা হয় না।